হাওজা নিউজ এজেন্সি: পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর বিচার বিভাগীয় সংস্থার প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আহমাদরেজা পুরখাগানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পাইলটরা তাঁদের অভিযানের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধানের প্রতিনিধিত্ব করে বৈঠকে অংশ নেন।
পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী বিপ্লবের নেতা এবং মিনাবের কয়েকজন শিক্ষার্থীর শাহাদাতের খবর শোনার পর তাঁরা শত্রুপক্ষের ওপর কঠোর আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা জানতে পারেন, প্রতিবেশী একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে শত্রুপক্ষ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত করেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ১ মার্চ ভোরে তাঁদের দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে অভিযানে পাঠানো হয়। বিমান দুটি প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো এবং কার্যত অচল হয়ে পড়া বলে বিবেচিত হচ্ছিল।
৫০ ফুটেরও কম উচ্চতায় উড্ডয়ন
পাইলটরা জানান, শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে তাঁদের ভূমি থেকে ৫০ ফুটেরও কম উচ্চতায়—প্রায় ১৮ মিটার—উড়তে হয়েছিল।
তাঁদের ভাষায়, “উড্ডয়নের উচ্চতা এতটাই কম ছিল যে দুটি জাহাজের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলোর ডেক আমাদের যুদ্ধবিমানের চেয়েও উঁচুতে ছিল।”
তাঁরা আরও জানান, সম্পূর্ণ রেডিও নীরবতা বজায় রেখে সক্রিয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে তাঁরা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছান। তাঁদের দাবি, শত্রুপক্ষ এমন হামলার কথা কল্পনাও করেনি এবং সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে আক্রমণের মুখে পড়ে।
একের পর এক বিস্ফোরিত হয় হেলিকপ্টার
পাইলটদের দাবি, তাঁরা ঘাঁটির উড্ডয়ন এলাকায় অবস্থানরত হেলিকপ্টারগুলোর ওপর পূর্ণ শক্তিতে বোমা হামলা চালান। এতে বিপুলসংখ্যক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।
তাঁরা বলেন, “সবকিছুই ছিল সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহ। আমরা স্পষ্টভাবে এতে সৃষ্টিকর্তার হাত দেখতে পেয়েছি। আমাদের মনে হচ্ছিল, প্রতিটি বোমা কয়েক ডজন বোমার কাজ করছে। হেলিকপ্টারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হচ্ছিল।”
পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষ মাত্র ১২টি হেলিকপ্টার ধ্বংসের কথা স্বীকার করেছে। তবে তাঁদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের সংখ্যা এবং হতাহতের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
তাঁরা জানান, হামলা শেষে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তাঁরা নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
ফেরার পথে এফ-১৬-এর ধাওয়া
পাইলটদের দাবি, ফেরার পথে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় অন্য একটি দেশের ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ভুলবশত ওই এফ-১৬ এবং নিজেদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবি
পাইলটদের আরও দাবি, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (AEI) নামের থিংকট্যাংকের একটি হিসাব অনুযায়ী, এই অভিযানে মার্কিন অবকাঠামোর ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তাঁরা জানান, হামলায় উন্নত সংস্করণের ভারী, নিখুঁত ও ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, উন্নত প্রযুক্তির মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই হ্যাঙ্গারের ভেতরে ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়।
আপনার কমেন্ট